প্রযুক্তি ডেস্ক
৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ২:৩৪ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ১০৬ জন

এয়ার অ্যাম্বুলেন্স কী এবং এর সম্ভাব্য খরচ কত হতে পারে?

ছবি : সংগৃহীত
১৫৩

হঠাৎ দুর্ঘটনা, স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক বা গুরুতর অসুস্থতার মতো সংকটময় মুহূর্তে জীবন বাঁচাতে প্রতিটি মিনিটই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রোগী যদি দূরবর্তী এলাকায় থাকেন বা দ্রুত উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়ার প্রয়োজন হয়, তখন সড়কপথে অপেক্ষা করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এসব পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সেবা—যা রোগীকে আকাশপথে অতি দ্রুত এবং নিরাপদে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার কার্যকর উপায়।

উন্নত লাইফ সাপোর্ট–সজ্জিত বিশেষ উড়োজাহাজ বা হেলিকপ্টারগুলো শুধু দ্রুত পরিবহনই নয়, বরং যাত্রাপথেই রোগীকে পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ সুবিধা দেয়। এতে থাকে ভেন্টিলেটর, ডিফিব্রিলেটর, মনিটর, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং অন্যান্য লাইফ সাপোর্ট সরঞ্জাম। রোগীর সঙ্গে থাকেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত প্যারামেডিক টিম, যারা পুরো যাত্রায় রোগীর অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।

এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ধরন

১. ফিক্সড-উইং ফ্লাইট অ্যাম্বুলেন্স

ফিক্সড-উইং এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সাধারণত জেট বা টার্বোপ্রপ ধরনের বিমান হয়ে থাকে। দীর্ঘ দূরত্ব বা আন্তঃশহর ও আন্তর্জাতিক রুটে রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রে এগুলো বেশি ব্যবহৃত হয়। বড় কেবিন থাকার কারণে এখানে উন্নত, পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ সেটআপ স্থাপন করা যায়। দূরপাল্লার যাত্রায় রোগীকে স্থিতিশীল ও আরামদায়ক পরিবেশে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য এ ধরনের বিমান অত্যন্ত কার্যকর।

২. রোটারি-ফ্লাইট (হেলিকপ্টার) অ্যাম্বুলেন্স

রোটারি-ফ্লাইট বা হেলিকপ্টার অ্যাম্বুলেন্স স্বল্প দূরত্বে দ্রুত স্থানান্তরের জন্য উপযুক্ত। বড় রানওয়ের প্রয়োজন না হওয়ায় এগুলো হাসপাতাল চত্বর, খোলা মাঠ বা নির্দিষ্ট জরুরি ল্যান্ডিং প্যাডে ওঠানামা করতে পারে। দুর্গম এলাকা থেকে রোগী উদ্ধার বা নিকটস্থ বিশেষায়িত হাসপাতালে দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে হেলিকপ্টার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। শহর বা দেশের অভ্যন্তরে ‘বেড-টু-বেড’ জরুরি সেবা প্রদানে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের সম্ভাব্য খরচ

প্রিমিয়াম সেবা হওয়ায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের খরচ তুলনামূলক বেশি। বাংলাদেশ হেলিকপ্টার সেবার তথ্য অনুযায়ী, দেশের ভেতরে এই সেবার ভাড়া অঞ্চলভেদে প্রায় ৯০ হাজার থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। দেশের বাইরে রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রে খরচ কয়েক লাখ টাকাও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
খরচ নির্ধারণে প্রধান বিষয়গুলো হলো—স্থানান্তরের দূরত্ব, রুটের ধরন, ব্যবহৃত বিমান বা হেলিকপ্টারের ধরণ, রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ যন্ত্রপাতি (যেমন ভেন্টিলেটর, ইসিএমও) এবং সংশ্লিষ্ট মেডিকেল টিমের উপস্থিতি। পাশাপাশি বিমানবন্দর ব্যবহারের ফি, ল্যান্ডিং চার্জ ও লজিস্টিক খরচও মোট ব্যয়ের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

সূত্র: ইমার্জেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স প্লাস ডট কম

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঈদ উপলক্ষে ইউসিবি ব্যাংক টেকেরহাট শাখার উদ্যোগে ৫০০ শিশুকে মেহেদী বিতরণ

গোপালগঞ্জ-১ আসনে নিরাপদ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে- এমপি সেলিমুজ্জামান

ঈদের আগে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী দেবে সরকার : মাহদী আমিন

মুকসুদপুরে প্রায় ১৫০ পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করল চরপ্রসন্নদী সমাজকল্যাণ সংস্থা 

গোপালগঞ্জের ৩টি আসনে ৩০ প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারালেন ১৯ প্রার্থী

গোপালগঞ্জের তিনটি আসনেই বিএনপি বিজয়ী

উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত

সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় জাতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রধান উপদেষ্টার

গোপালগঞ্জে চারটি ভোট কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণ

গোপালগঞ্জে ডিসির বাসভবনের সামনে দুর্বৃত্তদের ককটেল বিস্ফোরণ

১০

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিতে পারবেন ভোটাররা

১১

গোপালগঞ্জে বাস ও ই‌জিবাইকের মুখোমু‌খি সংঘর্ষে নিহত-২

১২

দেশে এসেছে ৪ লাখ ২২ হাজার প্রবাসীর পোস্টাল ব্যালট

১৩

গণমাধ্যমের কাছে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করে সরকার : প্রেস সচিব

১৪

ভোটকেন্দ্র ও ভোটার তথ্য জানা যাবে ৪ উপায়ে : ইসি

১৫

গোপালগঞ্জে পরকীয়ার জেরে ৩ বছরের শিশু সন্তানকে হত্যা

১৬

পীরগঞ্জে বাসর ঘরে বউ বদল, প্রতিবাদ করাই ছেলের নামে মামলা

১৭

জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিলেন এবি পার্টির মনোনিত এমপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার লিপসন মিয়া

১৮

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষ না হওয়ায় সম্ভব হচ্ছে না

১৯

রংপুরের ঙ্গাচড়ায় ১০ লাখ টাকার ভারতীয় ফেনসিডিলসহ ট্রাক আটক

২০