Untitled Document
Untitled Document
সাভারে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে জারবেরা ফুল
প্রকাশ: 2019-04-04     স্টাফ করেসপন্ডেন্ট অর্থনীতি

সাভার (ঢাকা) সংবাদদাতা : জারবেরা অ্যাসটারেসি পরিবারভুক্ত একটি বাণিজ্যিক ফুল। জার্মান উদ্ভিদতত্ত্ববিদ ও চিকিৎসক ট্রগোট জার্বারের নামানুসারে এ ফুলটির নামকরণ করা হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক ফুলবাণিজ্যে কাট ফ্লাওয়ার হিসেবে উল্লেখযোগ্য ১০টি ফুলের একটি। বেশিদিন ফুলদানিতে সতেজ থাকতে জারবেরার জুড়ি নেই। ইউরোপে জনপ্রিয় এ জারবেরা। বিদেশের গন্ডি পেরিয়ে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে রাজধানীর সাভার উপজেলায়। 

সাভার কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানায়, সাভারের বিভিন্ন এলাকায় এখন ৫০০ হেক্টর জমিতে নানা ধরনের ফুলের চাষ হলেও শুধু জারবেরার চাষ হচ্ছে প্রায় ৫০ হেক্টরে। সাভারের বিরুলিয়ার কয়েকটি গ্রাম ও ভাকুর্তা ইউনিয়নের মোগড়াকান্দা গ্রামে বাণিজ্যিকভিত্তিতে জারবেরা ফুলের চাষ হচ্ছে। 

 অঞ্চলে জারবেরা চাষে তারাই অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন। চাষিদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও জারবেরার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সাভারের বেশ কয়েকজন উদ্যোক্তার কাছে জারবেরা চাষ এখন লাভজনক হিসেবে সমাদৃত হয়ে উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, তাদের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকে এখন গোলাপ ও গ্ল্যাডিউলাস চাষের পাশাপাশি জারবেরা চাষের দিকে ঝুঁকছেন। সাভারে উৎপন্ন এ ফুল রফতানি না হলেও রাজধানীসহ স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে উৎপাদিত জারবেরা রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব।

ফুল ফোটার পর গাছেই একটি ফুল অন্তত ৩০ দিন সতেজ থাকে। আর তা দীর্ঘায়িত লম্বা স্টিক বা ডাঁটার কিছু অংশ পানিতে ডুবিয়ে রাখলে আট থেকে ১৫ দিন সতেজ থাকে। সপ্তাহে অন্তত চারবার ফুল সংগ্রহের পর তা পলিথিন দিয়ে র‌্যাপিং ও বাক্সবন্দি করে রাজধানীর শাহবাগে পাইকারদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। পাইকারি দরে এখন প্রতিটি ফুল বিক্রি হচ্ছে পাঁচ থেকে ১০ টাকায়। ফুলের দোকানে খুচরা বিক্রি হয় ১৫ থেকে ৩০ টাকায়। বিশেষ দিনগুলোয় চাহিদা বেশি থাকে, তখন দামও বেড়ে যায়। চারা লাগানোর কমপক্ষে এক সপ্তাহ আগে পচা জৈবসার, ইউরিয়াসহ কিছু রাসায়নিক সার প্রয়োগ করে ভালোভাবে মাটিতে মিশিয়ে দিতে হয়। কাট ফ্লাওয়ার উৎপাদনের জন্য জমিতে ৩০ থেকে ৪৫ সেন্টিমিটার উঁচু ও এক থেকে দুই মিটার চওড়া বেড তৈরি করতে হয়। পরিচর্যা ও অন্যান্য কাজের সুবিধার জন্য দুই বেডের মাঝে ৫০ সেন্টিমিটার জায়গা খালি রাখা উত্তম। রোগবালাই থেকে দূরে থাকতে চারা লাগানোর আগে তৈরি করা বেডে রাসায়নিক ব্যবহার করে অথবা কালো পলিথিন দিয়ে এক সপ্তাহ ঢেকে রেখে মাটি শোধন করে নিলে মাটিবাহিত রোগবালাইয়ের প্রকোপ কমে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে